
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীতে ‘তাসাউফতত্ত্ব, সুফি সাইকলজি ও সুফি মেডিটেশন বিষয়ক দিনব্যাপী অভিজ্ঞতামূলক কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সুফি সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মানুষের অন্তর্জগত পরিশুদ্ধ করতে এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে আধ্যাত্মিক চর্চা অত্যন্ত জরুরি। মানবিক মূল্যবোধ ও অন্তর্গত শান্তির চর্চা ছাড়া একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
সুফি সেন্টারের পরিচালক ও বিশিষ্ট সুফি চিন্তক খাজা ওসমান ফারুকী খাজাজীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জ্ঞানচর্চা, আত্মসচেতনতা ও নৈতিক বিকাশের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি মানবিক, সুষম ও পরিপূর্ণ সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আধ্যাত্মিক চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সুফি সেন্টারের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে খাজা ওসমান ফারুকী খাজাজী বলেন, তাসাউফ মানুষের অন্তর্জগতকে পরিশুদ্ধ করে স্রষ্টার সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে। সুফি সাইকলজি ও সুফি মেডিটেশনকে তিনি মানসিক ভারসাম্য, আত্মউপলব্ধি ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জনের একটি বিজ্ঞানসম্মত ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান, অধ্যাপক ডা. আব্দুজ জাহের, বিচারক মো. সালাউদ্দিন, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মুরাদ আনসারী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. অখিল পোদ্দার। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলফ্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান মাসউদ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে তাসাউফতত্ত্ব, সুফি সাইকলজি এবং সুফি মেডিটেশনের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং বিশেষ অভিজ্ঞতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা এই কর্মশালাকে আত্ম-উন্নয়ন ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
