
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নেতারা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য সংকট এড়াতে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তাদের আশঙ্কা, আগামী মাসের মধ্যে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু না হলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ছাড়িয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি। উপসাগরীয় দেশগুলো চায়, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকুক। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি শর্তহীনভাবে খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সামরিক শক্তি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চ্যাথাম হাউসের সদস্য এবং সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকিয়ার মনে করেন, দ্রুত কোনো চুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
