Tuesday, July 21

ব্রহ্মপুত্রের থাবায় ফের হুমকির মুখে চিলমারীর ডানতীর রক্ষা বাঁধ

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোত ও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে কাঁচকোল ডানতীর রক্ষা বাঁধ। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কালির কুঁড়া টি-বাঁধ থেকে কাঁচকোল সুইচ গেট পর্যন্ত একের পর এক স্থান ধসে পড়ায় পুরো অঞ্চলটিতে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সড়কটারি (মাগুরার বিল) মসজিদের কাছে বাঁধটির প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ ধসে নদীগর্ভে চলে যায়। এতে ১৮০ মিটার অংশের কংক্রিট ব্লক, বোল্ডার ও বাঁধের অর্ধেক স্থান বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এর ২০০ মিটার দূরে কাঁচকোল ও সড়কটারী এলাকায় আকস্মিক ভাঙনে ব্লক পিচিং নদীগর্ভে চলে যায়। ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটির প্রায় ১৬০ মিটার অংশের সিসি ব্লক, বোল্ডার ও জিও ব্যাগ তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। ইতিমধ্যেই হাঁটিথানা এলাকায় নদের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে।

ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি পুরোপুরি ধসে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটানো স্থানীয় বাসিন্দা বারী ও মজিতা বেগম বলেন, “বাঁধের ওপারেই নদী ভাঙছে, আমরা এপারে চরম ঝুঁকিতে আছি। রাতে আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না। বাঁধটা ভেঙে গেলে ঘরবাড়ি ও জমিজমা সব ভেসে যাবে। আমরা স্থায়ী মেরামত চাই।” স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত কাজ, নিম্নমানের উপকরণ এবং সময়মতো সংস্কার না করার কারণেই আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা স্থায়ী টি-বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা গোলাম ফারুক ও চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী সরকার, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল করিমসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ২০ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “নদের ভাঙন ও তীব্র স্রোত মোকাবিলায় আপাতত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে শুষ্ক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ডানতীর রক্ষা বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য বড় আকারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *