Tuesday, July 21

ভারতে প্রথম ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের অনুমোদন, মিলবে ২০২৭ সালে

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ডেঙ্গু প্রতিষেধক টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (Qdenga)-র বাজারজাতকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘তাকেদা’ (Takeda)-র তৈরি এই টেট্রাভেলেন্ট লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাকসিনটিকে সম্প্রতি ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিসিআই)।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধেই দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এই প্রতিষেধকটি বাজারে সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

অনুমোদন অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো ব্যক্তি—তিনি পূর্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুন বা না থাকুন—এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। ‘কিউডেঙ্গা’ মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান ধরন বা সেরোটাইপের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। মোট দুই ডোজের এই টিকাটি তিন মাসের ব্যবধানে চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করতে হয়।

বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের এক বছর পর এটি ৮০.২ শতাংশ পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং দেড় বছরের মধ্যে প্রায় ৯০.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে রক্ষা করে। এমনকি সাড়ে চার বছর পরও এই টিকার কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বজায় থাকে। ভারতে আলাদা ট্রায়ালেও এটি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এবং সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই টিকা ডেঙ্গু নির্মূলের একক কোনো সমাধান নয়। টিকাটি রোগের তীব্রতা ও হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমালেও, মশার বংশবৃদ্ধি রোধ না করা গেলে প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, এই টিকা গ্রহণের পর ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা, মাথাব্যথা বা হালকা জ্বরের মতো সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই টিকা প্রয়োগ প্রযোজ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *