
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় খুলনা মহানগরীকে আরও সহনশীল ও বাসযোগ্য করে তুলতে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার এবং সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে “ভূমি ব্যবহার, আবাসন ও উন্মুক্ত স্থান” বিষয়ক পরামর্শ কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে কেসিসি ও কেডিএ যৌথভাবে কাজ করছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, নগরীতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনেক জমি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব জায়গার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন পরিবেশের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে শহরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে অব্যবহৃত স্থানও নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।
প্রশাসক আরও বলেন, নগরীর বিভিন্ন সংযোগ সড়কের অবস্থা উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে খালের ওপর ছোট সেতু নির্মাণ এবং নতুন সড়ক বা আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উন্নয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম বলেন, আবাসন সংকট নিরসনে কেডিএ বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সংযোজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি নিরালা দিঘীর উন্নয়ন এবং দৌলতপুরে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। প্রাকৃতিক খাল পুনরুদ্ধারে কেসিসি ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কেএফডব্লিউ)-এর যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেড আরবান ডেভেলপমেন্ট (সিসিএইউডি) ফেজ-২ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খাল পুনঃখনন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, সরকারি পুকুর সংস্কার, নতুন পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ এবং জলবায়ু সহনশীল পার্ক স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মশালায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, কেএফডব্লিউর আরবান সেক্টর স্পেশালিস্ট শেখ তৌহিদুর রহমানসহ কেসিসি, কেডিএ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
