
|| প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ||
চাকুরী সেটা সরকারি হোক আর আধা সরকারি বা বেসরকারি সবখানেই বেতন স্কেল পদ অনুযায়ী প্রদান করা হয়ে থাকে।
চাকুরী বিধি মোতাবেক অবসর গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানভেদে গ্রাচ্যুইটি/ পেনশন/ অবসর ভাতা/ এককালীন অনুদান ইত্যাদি প্রদান করা হয়ে থাকে।
আগে শুধু সরকারি চাকুরী বিধিতে অবসরকালীন সুবিধা প্রদান করা হতো। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবসরোত্তর একটি পয়সাও প্রদান করার কোন বিধান ছিল না। এর চাইতে অমানবিক আর কি হতে পারে?
বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অবসরোত্তর ৭৫ মাসের মূল বেতনর সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করার বিধান করা হয়।
সে যাই হোক সরকারি অবসরোত্তর কর্মকর্তা কর্মচারীরাও যে খুব সুবিধাজনকভাবে তাদের টাকা উত্তোলন করতে পেরেছেন এমনটি কিন্তু নয়। নিজের টাকা উঠাতে কিন্তু এর একটা অংশ লাল ফিতার পিছনে খরচ করতে হয়েছে।
বেসরকারিদের তো আরো বেশি দিতে হয়েছে। কারণ তাদের তো কোন বাপ মা নেই। আমার খুব কাছের দু চার জন থেকে জানা। তাদেরকে প্রায় এক দশম অংশ অর্থের বিনিময়ে এ টাকা উদ্ধার করতে হয়েছে।
আর গত চার বছর থেকে তো বলতে গেলে কেউই কোন অর্থ পাচ্ছেন না।
গতকালের একটি ছবি দেখে শিক্ষক হিসেবে খুবই খারাপ লেগেছে। তার পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে না পেরে স্ত্রীর বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।
আমারও দু চারজন আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধব আছেন, যারা অবসরে আছেন ৪-৫ বৎসর হল। কিন্তু তারা এখনো অর্থ পাননি। নিজে এবং স্ত্রী রোগে শয্যাশায়ী। শোকে মুহ্যমান।
এদের অর্থ যথাসময়ে যথাযথভাবে প্রদানের জন্য সরকার বিশেষ লোকদের দায়িত্ব প্রদান করে। যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তিনিও একজন শিক্ষক অধ্যক্ষ এবং এমপি ছিলেন। এবং দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন।
চেয়ারে থাকাকালীন তার অনেক সুনাম শুনেছি। তার কাছে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার কখনো হয়নি। কিন্তু এখন চেয়ার ছেড়ে যাওয়ার পর শুনি গরীব অসহায় শিক্ষকদের সমস্ত অর্থ তিনি হাতিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষকদের দেওয়ার মত কোন অর্থ সঞ্চিত নেই এই খাতে।
বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ শিক্ষকদের জীবন নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলা নয়। তাদের প্রাপ্তিগুলো যথাসময়ে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
এ বিষয়ে আমার প্রস্তাবনা হল-
১. কোন সচিব অথবা কোন পদস্থ আর্মি অফিসার কে দায়িত্ব প্রদান করা।
২.ব্যানবেইজ অফিস থেকে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অফিসার কর্মকর্তাদের আগামী বছরে অবসরপ্রাপ্তব্যদের তালিকা করা।
৪. দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপরে ২৪ ঘন্টা গোয়েন্দা বিভাগের নজর রাখা। যাতে তিনি কোন অর্থ সরাতে না পারেন।
৪.অবসরের অন্তত এক বছর পূর্বেই অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. তাদের হিসাবের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে এ খাতে জমা রাখা।
৬. অবসরের দিন প্রত্যেককে অন্তত অর্ধেক অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৭. বাকি অর্ধেক অর্থ ৬ মাস থেকে এক বৎসরের মধ্যে পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৮. কোন কারনে অর্থ প্রদানে বিলম্ব হলে ভোট অর্থের লভ্যাংশ সহ প্রদান করা।
এভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অন্তত তারা আর কিছু না হোক অর্থ পেয়ে শান্তিতে পরপারে যাত্রা করতে পারবেন।
লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
