রবিবার, জুন ২১

দেশপ্রেম ও দেশদ্রোহিতার মাপকাঠি কি?

দেশপ্রেম ও দেশদ্রোহীতার মাপকাঠি কি? একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই জানা থাকা দরকার। কিন্তু আমি জানি না, কি কাজ করলে দেশ প্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত হওয়া যায় আর কি করলে দেশদ্রোহী হিসেবে শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়।

স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আমার কথা বলার সীমা কতটুকু? কতটুকু বললে এবং কি কাজ করলে আমি দেশ জাতির কাছে দেশ প্রেমিক হিসেবে পুরস্কার পাবো অথবা দেশদ্রোহী হিসেবে তিরস্কৃত হব।

দেশের সাধারণত পক্ষে-বিপক্ষে দু’ধরনের লোক থাকে। সেটা ইলেকশন হোক বা ভোটাভোটি হোক বা দেশে কোন যুদ্ধবিগ্রহ হোক না কেন। আমরা এটা বরাবরই দেখে আসছি।

দুপক্ষ হওয়ার কারণে পলাশীর আম্রকাননে আমরা সংখ্যায় বেশি থাকার পরেও বিশেষ এক জাতি গোষ্ঠীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

তখন নবাবের পক্ষে যারা ছিলেন তারা দেশপ্রেমিক, বিরুদ্ধে যারা ছিলেন তারা দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত হন। দেশের আইনে দেশদ্রোহীদের কি বিচার হয়েছিল জানি না, তবে বিশ্বাসঘাতকদের বিচার প্রকৃতি ছাড় দেয় নি। তাদের মৃত্যু কারও সুখকর হয়নি। করুন থেকে করুনতর হয়েছিল।

একাত্তরের স্বাধীনতা সেখানেও পক্ষে বিপক্ষে দুটোই ছিল। ৫০ বছর পরেও দেশ জাতি এখনও সেই জের টানছে। দেরিতে হলেও বিপক্ষের বেশ কিছু লোককে আমরা দেশদ্রোহিতার কারণে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে সুবিচার করতে পেরেছি বলে মনে করছি।

পক্ষের লোকদের মধ্যে দেশ প্রেমিক হিসেবে যাদেরকে আমরা আখ্যায়িত করেছি তারা ছিলেন দেশের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধা।

সরকার তাদের যথাযথ সম্মান এখনো বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের পরিবারের সন্তান থেকে নাতি-নাতনী পর্যন্ত পড়াশোনা চাকুরীর সকল সুযোগসহ তাদেরকে ভাতা প্রদান করছি আমরা।

কিন্তু যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে ৫০-সাহস্রাধিক ব্যক্তি এর সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছি, আমরা কি দেশপ্রেমিক না দেশদ্রোহী। এর সঠিক পরিচিতি কিন্তু আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট হওয়া দরকার।

তারাও যদি দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন তাহলে তাদের সুযোগ-সুবিধা সব অব্যাহত রাখা হোক। আর যদি দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করেন তাহলে তাদের সকলকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।

সর্বশেষ জুলাই নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে ছিলাম আমরা দেশ জাতি। একপক্ষের লোককে অন্য পক্ষের বুকে গুলি চালাতে দেখেছি।

খালি হতে দেখেছি অনেক মায়ের বুক, সাজরা হতে দেখেছি অনেক শিশুর আসতো শরীর।

এতে কয়েক হাজার লোক শহীদ হয়েছেন। পঙ্গুত্ববরণ করেছেন কয়েক লক্ষ লোক। যারা বিপক্ষে ছিলেন তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

আমরা এখানে কাকে দেশপ্রেমিক এবং কাকে দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করব?

সম্প্রতি বিশেষ ধর্মের একজন উকিল এ দেশকে বিভক্ত করে আলাদা প্রদেশ চেয়েছেন। এবং সেখানে শুধুমাত্র তাদের ধর্মের লোকদের বসবাসেরও দাবি জানিয়েছেন।

শুধু তাই নয় তিনি জুলাই কেউ অস্বীকার করেছেন, জুলাইতে অংশগ্রহণকারী দেশপ্রেমিকদেরকে তিনি জঙ্গী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এখন তার চাওয়াটা দেশদ্রোহিতার শামিল হবে, না উনি দেশপ্রেমিক হিসেবে পুরস্কৃত হবেন? বিষয়টির বিচারের ভার দেশ জাতির কাছেই রইলো।

তবে দেশপ্রেমিক এবং দেশদ্রোহী এই দুটি পরিভাষার স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকা দরকার।
থাকা দরকার দেশপ্রেমিকের জন্য পুরস্কার এবং দেশদ্রোহীদের জন্য শাস্তি এবং তিরস্কার। তাহলেই দেশপ্রেমিকরা শান্তিতে থাকতে পারবে অন্যথায় নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *