
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
চিলমারী উপজেলায় চিলমারী ইউনিয়নের করাই বরিশাল এলাকায় ” বিশার পাড়া” আশ্রায়ন প্রকল্পটি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের মুখে।
ব্রহ্মপুত্র নদের রাক্ষুসী রূপে বিলীন হচ্ছে একের পর এক আশ্রায়ন প্রকল্পের পরিবারের ঘরবাড়ি , আতঙ্কে দিন পার করতেছেন ব্যারাকের মানুষেরা।
জানা গেছে, রবিবার (২৮ জুন) রাত আড়াইটার সময় নদের প্রবল স্রোতে বিশার পাড়া আশ্রায়ন প্রকল্পটির ১৬০ টি পরিবারের বসবাসরত, এক রাতেই ২৫ টি পরিবারের ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক প্রানহানির ক্ষয়ক্ষতি না হলেও খোলা আকাশের নীচে গবাদি পশু সহ নদী ভাঙ্গা পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করতেছে। নদের ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে, অব্যাহত নদের ভাঙ্গনে আশ্রায়ন প্রকল্পটি গ্রাস করে ফেলবে।
নদের ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারা আজিদ, আজম, আলম, মতিয়ার, নজরুল, হামিদ, লাল মিয়া, মোকলেছুর, শাহীন , আর: রহিম, বক্কর,রসিদ, রুবিনা,মনছুর অতিকষ্টে জানান নদের ভাঙ্গন আর ঘরবাড়ি হারানো চরাঞ্চল মানুষের জীবন সঙ্গী, খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত, গবাদি পশু সহ। ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান সেইসাথে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সামগ্রী ও মেডিসিনের সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানান।
চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল কাজী জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের আকস্মিক ভাঙ্গনে এক রাতেই ২৫ টি পরিবারের ঘর বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত রাত আড়াইটায় ভাঙ্গন শুরু হয়ে নিমিষেই শেষ হয়ে যায় চরাঞ্চলের মানুষগুলোর সর্বস্ব। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইউনিয়ন পরিষদে ১৫০০ জিও ব্যাগ বরাদ্দ দিলেও নদের ভাঙ্গন প্রতিরোধে অপ্রতুল। বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেও সুফল পাচ্ছি না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ঘর বাড়িগুলো তারাই যেন ঘরবাড়িগুলো নদের স্রোতে ভেসে নিয়ে যাওয়ার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলে। জরুরী ভিত্তিতে ত্রান সামগ্রী বিতরণের জন্য অনুরোধ জানান ।
উল্লেখ্য, সরকারের ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্প, ‘জমি আছে ঘর নেই’ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমিহীনদের জন্য সেমি-পাকা একক গৃহ ও গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বিভিন্ন পর্যায়ে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অসংখ্য ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং নতুন করে ঘরও হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ৩২ টি ব্যারাক ১৬০ টি বন্দোবস্ত নথি অনুমোদন করা হয়েছে, কবুলিয়ত ও খারিজ সম্পন্ন হয়েছে। এবং সকল দলিল সুবিধাভোগীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে ২০১১-১২।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর তত্বাবধানে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার গৃহহীনদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয় মৌখিকভাবে।
পরবর্তীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে টিন, কাঠ ও রড সিমেন্টের সিড়ি এবং মেঝে পাকা করে প্রতি ৫ পরিবারের জন্য বারান্দাসহ ঘর মিলে একটি করে ব্যারাক তৈরি করা হয়। প্রতি ৫ পরিবারের জন্য নির্মিত ব্যারাকের সাথে ৩টি টয়লেট ও ২টি নলকুপ স্থাপন করা হয়েছিল। আশ্রয়ণ কেন্দ্রটিতে ১৬০ পরিবারের জন্য এরুপ ৩২টি ব্যারাক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
অনুমোদন ও হস্তান্তর চিলমারী উপজেলার মোট ২২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ১টি গুচ্ছগ্রামের মধ্যে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প একটি।
