বৃহস্পতিবার, জুন ৪

ইরান যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস, চাপে ট্রাম্প

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের আনা এই ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) বর্তমানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও এই ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। ফলে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও নিজের দলের আইনপ্রণেতাদের একাংশের বিরোধিতার মুখে এই প্রস্তাব পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি বছরের মধ্যে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্য করতে এই ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবের ওপর ভোটের আয়োজন করা হয়। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এই সংক্রান্ত তিনটি উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমে আসছিল। মূলত, গত ২১ মে কংগ্রেসের মেমোরিয়াল ডে অবকাশ শুরুর আগের দিনই এই প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি রিপাবলিকানদের একাংশের সমর্থন নিয়ে পাস হয়ে যেতে পারে—এমন জোরালো ইঙ্গিত পেয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও হাউস স্পিকার মাইক জনসন নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি করে শেষ মুহূর্তে ভোটটি বাতিল করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি এবং বুধবারের ভোটে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতকরণের প্রস্তাবটি ঠিকই পাস হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো যুদ্ধ ঘোষণা করার একক ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত থাকলেও, ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন নেননি। উল্টো তিনি এই যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বা ‘স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। রিপাবলিকান এই নেতার বারবার এককভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের এমন প্রবণতা কংগ্রেসের অনেক আইনপ্রণেতাকেই ক্ষুব্ধ ও হতাশ করে তুলেছে।

পাস হওয়া এই নতুন প্রস্তাবটিতে কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া চলমান ইরান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। অবশ্য এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এটি কার্যকর হতে হলে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও পাস হতে হবে এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প যদি এতে ভেটো (বাতিল করার ক্ষমতা) প্রয়োগ করেন, তবে তা অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে হামলা শুরু করে, যার ফলে আগামী শনিবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে, তাসত্ত্বেও এই যুদ্ধবিরতি আমলেই না নিয়ে মধ্যবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সংঘাত জিইয়ে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের লাগাম টানতেই মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *