সোমবার, জুন ২২

সীমান্তে পুশইন, রামমূর্তি ইস্যু ও আলাদা প্রদেশের দাবি পতিত ফ্যাসিস্ট ও মোদী-শুভেন্দুর নীল নকশা: ইসলামী ঐক্য আন্দোলন

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অপচেষ্টা, গাইবান্ধায় তথাকথিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি স্থাপনের নামে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক হিন্দুদের জন্য ‘আলাদা প্রদেশ’ গঠনের প্রকাশ্য ঘোষণা মূলত রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এসব কর্মকাণ্ড দেশের শান্ত ও স্থিতিশীল পরিবেশকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং পার্শ্ববর্তী দেশের মোদী-শুভেন্দুর আধিপত্যবাদী শক্তির এক গভীর ও যৌথ নীল নকশা। এসব ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা রুখে দিতে সরকারসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে সর্বদা সোচ্চার থাকতে আহ্বান জানান। সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া বলেন, দেশের সুদীর্ঘকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ঐক্যকে নসাৎ করতে একটি বিশেষ মহল গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা পার্শ্ববর্তী আধিপত্যবাদী শক্তির সাহায্যে দেশে একটি কৃত্রিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্যে ‘সন্তোষ শর্মা’ নামক ব্যক্তির স্বাক্ষর সংবলিত উসকানিমূলক বার্তা দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলা ও থানায় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। স্পষ্টতই, একটি বিশেষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মদদে এবং তাদের সাথে যোগসাজশ রেখে দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলার এই ছক সাজানো হয়েছে। এহেন হিংসাত্মক কার্যক্রমে কমল কান্তি দে ও চৈতালি চক্রবর্তীর মতো উগ্র ব্যক্তিত্বদের দ্বারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের কাল্পনিক অজুহাতে লাগাতার ইসলাম এবং দেশবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

আন্দোলনের আমীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পুশইনের যে অপচেষ্টা চলছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এ দেশের তৌহিদী জনতা রাত জেগে সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করলেও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্থানীয় জনগণের সেন্টিমেন্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশাল মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। মূর্তি থাকবে মন্দিরে, সেখানে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে; কিন্তু প্রকাশ্যে বিশাল মূর্তি নির্মাণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, চৈতালী চক্রবর্তীর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ। অনতিবিলম্বে এই রাষ্ট্রদ্রোহীকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক তার আইনজীবী সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে। একই সাথে ‘র’ এর এজেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত সন্তোষ শর্মা, হরিদাস চন্দ্র ও ইসকনের উগ্রবাদী উস্কানিদাতাসহ সকল ইন্ধনদাতাকে আইনের আওতায় এনে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে এই কুচক্রী মহলের বলির পাঁঠা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিশেষ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের জন্য সরকারকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *