Sunday, July 26

সংসদ অধিবেশন শেষে ব্যাটারির রিকশায় বাড়ি ফেরা নিয়ে এমপি মিতুর আবেগঘন স্ট্যাটাস

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

সংসদ অধিবেশন শেষে উবার বা সিএনজি না পেয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে বাড়ি ফেরার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও ত্রয়োদশ সংসদের সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু।

আজ সকালে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “রাত ৭.০৪ বাজে অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে আমার প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিলো, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার উপর সবার ধারণা বিরাট বড় জজ কত না জানি টাকা। যা আয় করি যা জমাই বছরে দুইবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়।

গত ৫ দিনে আমার উবার /পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো আমি গরমের কষ্ট থেকে বাচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারন অধিকাংশ কার এর এ সি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪ টা।অধিকাংশ ফিরিয়ে দেই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা ,কারো অসুস্থতা সব মিলিয়ে।

সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিমি রাস্তা (নেটে দেখলাম) হেটে বের হতে হয় যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩ টা বই অন্য হাতে ব্যাগ মোবাইল কাগজপত্র নিয়ে বের হতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো রাস্তার মাঝে বসে পড়ি এতো কষ্ট লাগছিলো।

তারপর গেটে দাঁড়িয়ে সিএনজি পাই না। তারচেয়েও মজার হলো লোকজন আমাকে সিএনজি খুঁজতে দেখে এমনভাবে দেখছে যেন নতুন কিছু দেখছে। কানে ফিসফাস করছিলো। পরে ধুম করে প্রিয় ব্যাটারির গাড়িতে উঠে পড়লাম। সংসদের অনেক নতুন রীতির ভীরে বোধহয় এটাও নতুন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন শেষে ব্যাটারির রিক্সায় বাড়ি ফিরছে।

লিখতে লিখতেই মনে হলো ট্যাক্স ফ্রি গাড়িসহ সংসদ সদস্যদের অনেক সুযোগ সুবিধা থাকতো। যেগুলো হয়তো আমাদের মতো এম পিদের জন্যেই ছিলো। কিন্তু সমস্যা হলো গত কয়েক যুগেও আমাদের মতো এম পি সংসদে ঢুকে নি। যারা ঢুকেছে তাদের আগে থেকেই ৪/৫ টা গাড়ি থাকতো। এখনো তাই। এসব সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভালো হয়েছে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ধনী এম পিরা আরও ধনী হইতো। তবে আমার মতো যারা আছেন যেমন মানসুরা, মারদিয়া আপা, হাসনাত, আতিক ভাই এদের এখন সব খরচ সামলে জীবন যায় যায় অবস্থা। পুরো সংসদে ২ -৩ % মানুষ হবে যাদের আমাদের মতো দশা। ঘেঁটে ঘুটে দেখলাম সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধার কোনো লোন নাই।

যাই হোক এর মধ্যে খুশির খবর হলো গত রাতেও বসে বসে রেগুলার অধিবেশনের জন্য কম দামী শাড়ি খুঁজেছি অনলাইনে। কারন সারাদিন ধরে পড়ে থেকে সব জামদানী নষ্ট হচ্ছে। স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বাসায় কলিংবেল। মা শা আল্লাহ দেখি বড় আপা মানে আমার হাসবেন্ডের বোন ৪ টা শাড়ি পাঠিয়েছেন। যদিও আমার সব দামি ,কম দামি সব বড় আপার দেয়া। বড় আপা সবসময়ই কিভাবে যেন আমার মনে কথা বুঝে যায়। যখন যা লাগে না চাইতেই হাজির করে। আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিলো একটা বড় বোনের আল্লাহ আমাকে আমার হাজবেন্ডের বোন দিয়ে সেটা পূরন করছে আলহামদুলিল্লাহ।

তবে এই টেসলায় যাতায়াতেরও মজা আছে। দূর থেকে মানুষ ডাক দেয় এই মিতু আপু, এই মিতু আপু। আপনি মিতু আপু না? তখন সব কষ্ট মুছে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *