
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যশোরের কেশবপুরে আধুনিক প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক খাদ্য-নির্ভর কোরাল বা ভেটকি মাছ চাষ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে মৎস্য অধিদপ্তর।
কর্মশালায় জানানো হয়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে বিএসএফএফ এবং বিপিসি যৌথভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক খাবার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে কোরাল চাষের একটি পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। ওই প্রকল্পের কারিগরি জ্ঞান এবং সফলতাকে কাজে লাগিয়ে এখন উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ চাষিদের মাঝে এই আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি খাবার ব্যবহারের ফলে কোরাল মাছের উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মৃত্যুহার কমেছে, যা মৎস্য চাষিদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবস্থা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও মৎস্য চাষ বিশেষজ্ঞ ড. মো. জিল্লুর রহমান, বিএসএফএফ-এর বিশেষজ্ঞ সুদীপ বিশ্বাস এবং বিপিসি-র সহকারী পরিচালক পলাশ কুমার ঘোষ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএসএফএফ-এর নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কেশবপুর এলাকার মৎস্যজীবী, হ্যাচারি মালিক, টেকনিশিয়ান, আকুয়া ইনপুটস ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কোরাল বা ভেটকি মাছ চাষের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এই মাছ রপ্তানি করা সম্ভব। অংশগ্রহণকারীরা এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মৎস্য খাতে এই নতুন প্রযুক্তি ব্লু-ইকোনমিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
