বুধবার, মে ৬

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আর জঙ্গি কারখানা হতে দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর কোনোভাবেই উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদের চারণভূমি হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বকীয়তা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং আমরা তাদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। তবে স্বাধীনতার নামে এমন কোনো পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না, যা থেকে আরেকটি ‘হলি আর্টিসান’-এর মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ (এপিইউবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তার ফসল হিসেবে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যার সুফল দেশবাসী আজও ভোগ করছে। তবে ২০১০ এবং ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময়ে আইন সংশোধন করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমলাতান্ত্রিক বা সরকারি প্রশাসনের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা কাম্য নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা ক্রস-বর্ডার এডুকেশনের অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার বিষয়ে পুনরায় পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে বসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিদেশের মাটিতে শিক্ষার মান উন্নয়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, আশির দশকে যখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে আসত। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। মালয়েশিয়া তাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন করে ‘রিভার্স ব্রেন ড্রেইন’ নিশ্চিত করেছে, যা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক।

এপিইউবি-এর চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত থেকে বেসরকারি উচ্চশিক্ষার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *