
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে বেইজিং। বুধবার বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শান্তি আলোচনার ওপর জোর দেন। বৈঠক শেষে চীন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি। পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়া বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে বেইজিং সতর্ক করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সব পক্ষকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের পূর্ণ ও বৈধ অধিকার তেহরানের রয়েছে। পাশাপাশি ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার যে অঙ্গীকার করেছে, চীন তার ভূয়সী প্রশংসা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর দুই মিত্র দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বেইজিং এই বৈঠকের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন তেহরানকে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে।
