
|| কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার গার্মেন্টস ও কম্পিউটার মালামালসহ একটি অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ, তবে বাকি দুজন এখনও পলাতক রয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) মধ্যরাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার পাটহাটি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিসমিল্লাহ ফ্যাশন হাউজ থেকে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার “ডিফারেন্ট ফ্যাশন”-এ ফেরত পাঠানোর জন্য দুই কার্টন ও একটি বস্তাভর্তি শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি বুকিং দেওয়া হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। একইসঙ্গে ভুরুঙ্গামারী এফএম কম্পিউটার থেকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকার কম্পিউটার মালামালের একটি কার্টনও পাঠানো হচ্ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে ভুরুঙ্গামারী থেকে অটোরিকশাযোগে মালামালগুলো নাগেশ্বরীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন চালক মো. আব্দুল আউয়াল। ঝড়ো বৃষ্টির কারণে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তিনি নাগেশ্বরীতে পৌঁছান। পরে বি.এস.সি মোড় হয়ে হাজীপাড়া দিয়ে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসে যাওয়ার পথে পাটহাটি মোড়ে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী অটোর পথরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আপেল মিয়া (২৮), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও সুজন মিয়া ওরফে গাডু (২৭) অটোচালককে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ফেলে দিয়ে মালামালসহ অটোটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত চালকের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং ছিনতাইকারীদের খোঁজে বের হয়।
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে উপজেলার আদর্শ পাড়া এলাকা থেকে খালি অটোসহ সুজন মিয়া ওরফে গাডুকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে মাটিচাপা অবস্থায় দুই কার্টন ও একটি বস্তাভর্তি গার্মেন্টস পণ্য উদ্ধার করা হয়। তবে সাদ্দাম ও আপেল মিয়া পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
