
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার পৌর এলাকা, বামনডাঙ্গা এবং ভিতরবন্দ ইউনিয়নে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ফকিরটারী বাগডাঙ্গা এলাকার শাহিনুর আলমের ছেলে মাহবুবুল হাসান মুহিত নিজের বাড়িতে আইপিএসের ব্যাটারির সংযোগ দিতে যান। এ সময় তিনি অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটি বামনডাঙ্গা এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে সাবু মিয়ার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। সেখানে সাউন্ড বক্সের সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এক যুবক। তাকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে, দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের সুকানদিঘি হাজিরহাট বাজার এলাকায় নিজ বাড়িতে অপর একটি বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলী (৪০) ওই এলাকার লোকমান আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে খাওয়া-দাওয়া শেষে জাহাঙ্গীর নিজ বাড়ির গোসলখানার মোটরের সংযোগ ঠিক করছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তানরা ঘরের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ জাহাঙ্গীরের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ছুটে গিয়ে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে স্বজনরা জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এসব দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পৃথক এই ৩টি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
