Thursday, July 16

সাজিদ হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও বিচারের দাবিতে ইবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

|| এস এম রেদোয়ানুল হাসান | ইবি প্রতিনিধি ||

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকারীদের সনাক্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির।

‎বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি শুরু করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভটি শেষ হয়।

‎এ সময় শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ওয়ায়েজ কুরুনীসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

‎মিছিলে তাদেরকে “তুমি কে আমি কে? সাজিদ সাজিদ”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?”, “আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না”, “আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “খুনিরা ঘুরে ফেরে, প্রশাসন কি করে?”, “জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “আর নয় বিলম্ব, সাজিদ হত্যার তদন্ত”, “ফাঁসি-ফাঁসি-ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় দলটির নেতাকর্মীদের।

‎এসময় শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘সাজিদ আব্দুল্লাহ খুনের আজকে প্রায় এক বছর হলেও এখন পর্যন্ত খুনি গ্রেপ্তার হয়নি। খুনিকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই খুনের বিচারের বিলম্বের কারনে আমাদের সমাজকল্যাণ বিভাগের এক ম্যামকে হত্যা করা হয়েছে। তার আসামীকে ধরা হলেও এখনো বিচার হয় নি। এই হত্যাকান্ডের পরে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ক্যাম্পাসে এখনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি। অবাধে বহিরাগত প্রবেশের কারনে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এমনকি নিরাপত্তা কর্মীর গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। আপনারা যদি সতর্ক না হন, এগুলোর বিচার না করেন তাহলে হাসিনার মতো পরিনতি আপনাদেরও করা হবে।’

‎প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার প্রায় এক বছর হলেও মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *