Sunday, August 2

‎ইবির ওরিয়েন্টেশনের খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী

|| এস এম রেদোয়ানুল হাসান | ইবি প্রতিনিধি ||

‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুই পর্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দুপুরে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা। তবে নিম্নমান, টক হয়ে যাওয়া ও নষ্ট চাল-ডাল পরিবেশনের কারণে সেই খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে নবীনদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন মোট ১৪টি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি ‘আপ্যায়ন উপ-কমিটি’ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে খাবারের বাজেট ধরা হয়েছিল ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে পরবর্তীতে তা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি প্যাকেট খাবারের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই বাজেটে ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাবার কুষ্টিয়ার ‘ধোঁয়া রেস্টুরেন্ট’ থেকে কিনে বিভাগে বিভাগে সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, এই রেস্টুরেন্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ও সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক পরিচালনা করেন।

‎খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চারুকলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কাছে আসা খাবারটি অত্যন্ত বাজে ছিল এবং বিভাগের কেউ তা খেতে পারেনি। তারা উল্লেখ করেন, বাজারদর অনুযায়ী এই খাবারের মান সর্বোচ্চ ১৮০ টাকার বেশি হতে পারে না।

‎একই অভিজ্ঞতা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাল একেবারেই খাওয়া যায়নি এবং ডাল ফেটে বা পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে সামান্য মুখে দিলেও পুরো খাবারটা কেউই শেষ করতে পারেনি। তাদের মতে, বাইরে এই মানের খাবারের দাম সর্বোচ্চ ১০০ টাকা হতে পারে।

‎ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, চাল ঠিকমতো ফুটেনি বা সেদ্ধ হয়নি, আর ডাল ছিল টক। সার্বিকভাবে খাবারের মান ছিল একদমই নিম্নস্তরের, যা বাইরে কিনতে গেলে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা লাগতে পারে।

‎একইভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, চাল-ডালের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তারা পেট ভরে খেতেই পারেননি। একমাত্র রোস্ট ছাড়া বাকি সব কিছুই অযোগ্য ছিল। এমনকি ডিমটা কিছুটা ভালো থাকলেও টক ডালের ভেতর থাকার কারণে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খাবারও ঠিকমতো খাওয়া হয়নি, আবার সময়মতো বাসায়ও ফেরা সম্ভব হয়নি।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার প্রথম দিনেই এমন নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ঘটনায় নবীন শিক্ষার্থীদের আনন্দের অভিজ্ঞতা ফিকে হয়ে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই সমালোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *