
|| এস এম রেদোয়ানুল হাসান | ইবি প্রতিনিধি ||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘মাকে লেখা’ শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন এবং শহিদদের স্মরণে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১ টায় শহিদ আনাস হলে তার মাকে লেখা চিঠির ফলক উন্মোচন করা হয়। পরে সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি’র ১১৬ নং কক্ষে ইবি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
চিত্রাঙ্কনে তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ক-বিভাগের বিষয় ছিল বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ খ-বিভাগের বিষয় ছিল— ‘পানি লাগবে পানি, পানি এবং গ-বিভাগের বিষয় ছিল জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী।
শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ এবং নানা সাইদুর রহমান খানের উপস্থিতিতে ফলক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মধ্য দিয়ে এই হলে যারা শিক্ষার্থী তারা চিঠিটি পড়ে জানতে পারবে আনাস দেশপ্রেমিক একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের দেশপ্রেমের যে চিহ্ন আমরা চিঠিতে দেখলাম, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচিগুলো গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করবে।
এসময় আয়োজকরাসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতিবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সে-সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস তার মাকে একটি চিঠি লিখে সকালে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাজধানীর চাঁনখারপুলে পুলিশের গুলিতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
