
অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া
আমাদের কাজের উৎসাহের বাতিঘর ছিলেন। তখনকার সময়ের বিপ্লবী কণ্ঠস্বর, মাদ্রাসা ছাত্রদের আদর্শিক নেতা, জামিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি, আমার প্রিয় নেতা, যার প্রেরণায় আমরা কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। তিনি হলেন অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকায় একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন।
তিনি এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম এম সিরাজুল ইসলাম। কর্মজীবনের তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশন-এর পরিচালক ছিলেন। তিনিও আমাদের মধ্যে নেই। আল্লাহ তাঁকেও জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমি তখন ফেনী জেলার সভাপতি এবং কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম।
বর্তমান সময়ের মত মোবাইল বা অনলাইনের কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। কেন্দ্র থেকে কোনো সার্কুলার দিলে তা হাতে লিখে বা টাইপ করে ডাকযোগ পাঠাতেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এম এম সিরাজুল ইসলাম ভাই। সার্কুলার পেতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লেগে যেত। তার হাতের লেখাটা ছিল খুবই সুন্দর। তার হাতে লেখা নির্দেশনা পত্র পাওয়া মাত্রই আমরা কর্মসূচি পালন করতাম।
পোস্টারিং:
কেন্দ্র থেকে প্রেরিত বিভিন্ন বিষয় ও দিবস উপলক্ষে পোস্টার প্রেরণ করা হতো। সেই পোস্টারগুলো আমরা যথাসময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাত্রি বেলায় লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। দলবদ্ধভাবে পোস্টার লাগানোর কাজ করা হতো। সাথে আমি থেকে তাদেরকে পোস্টার লাগানোর স্থানগুলো দেখিয়ে দিতাম।
একদিন পোস্টার লাগানোর সময় একজন অপরিচিত লোক আমার পিছনের থেকে এসে পিঠে হাত দিয়ে নাম ধরে বলেন, ভাই কেমন আছেন? আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখি যে আমি তাকে চিনি না। তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার পরিচয়। সে বলে আমি আপনাকে চিনি। আপনি আমাকে চিনবেন না। আপনাদের কাজ আপনারা করুন। পরবর্তী সময় জানতে পারলাম সে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার লোক ছিলেন।
তখন ফেনী জেলায় যে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ছিল, তার মধ্যে জামিয়তে তালাবা অন্যতম একটি । সে কারণে সবসময় সংবাদকর্মী এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আমাদের খোঁজ খবর রাখতেন। যেমন: পরিচিত এক ভাই একদিন বিকাল বেলায় পত্রিকায় দেখে এসে বলেন আপনার একটি সংবাদ ডেইলি অবজারভার পত্রিকায় দেখতে পেলাম। আমি এবং আমাদের সংগঠন এমন পরিচিতি লাভ করেছিল, আমি যখন ফেনী থেকে ঢাকায় কোনো সাংগঠনিক প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যে আসতাম। তখন স্থানীয় পত্রিকায় এভাবে সংবাদ পরিবেশন করতেন, তিনি আজ ঢাকার উদ্দেশ্যে ফেনী ত্যাগ করেছেন। আমার অভিজ্ঞতায় বলে কাজের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সংগঠনের পরিচয় বহন করে। এর জন্য সংবাদকর্মীদের পেছনে পেছনে দৌড়াতে হয় না।
বিক্ষোভ মিছিল:
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কালে একবার সারা বাংলাদেশে প্রায় ৯০০ মাদ্রাসার মঞ্জুরি বন্ধ করার ঘোষণা আসে। পরক্ষণে মাদ্রাসার মঞ্জুরী বন্ধের প্রতিবাদে জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার পক্ষ থেকে সারা দেশব্যাপী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ব্যবস্থা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ফেনী জেলা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া এক বিক্ষোভ মিছিলের প্রোগ্রাম হাতে নেয়। একটি নির্দিষ্ট তারিখে ফেনী মহকুমার প্রায় সকল মাদ্রাসায় এই বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদেরকে অংশগ্রহণ করার জন্য তলাবার দায়িত্বশীলদেরকে পত্র দিয়ে প্রেরণ করা হয়।ফেনী মিজান ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
নির্দিষ্ট তারিখ সকাল ১০ টার মধ্যে সব এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র বাস ও বিভিন্ন যানবাহনে মিজান ময়দানে সমবেত হয়।
অনেক বড় একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সারা শহর প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ করা হয়।
পরের দিন স্থানীয় পত্রিকায় ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। মাদ্রাসার মঞ্জুরি বন্ধের প্রতিবাদে জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার দুই হাজার ছাত্রের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ঢাকার দৈনিক আজাদ পত্রিকায়ও এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। (চলবে ইনশাল্লাহ)
লেখক: কেন্দ্রীয় আমীর, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন।
