
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
অবস্হাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, দেশে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননের এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যা এক প্রকার ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম ক্ষতিকর।
চরিত্র হনন বলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো রাজনীতিবিদের বা কারোর মানসম্মান, খ্যাতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করার প্রয়াস ও প্রক্রিয়াকে বুঝায়। অনেক সময় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়। এই সকল অপপ্রচারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদকে সমাজের মধ্যে হেয় প্রতিপন্ন করা, তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা।
চরিত্র হননের ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সহিংসতা বৃদ্ধি পায় এবং জনজীবনে এক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। যখন কোনো রাজনীতিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় এবং অবিরাম অপপ্রচার চালানো হয়, তখন জনগণের মধ্যে রাজনীতিবীদদের প্রতি সৃষ্টি হয় আস্থাহীনতা।সমাজ হয়ে ওঠে অস্থির, যা দেশের জন্য কখনোই কল্যাণকর নয়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সকল তথ্য শুধু ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং দেশ সম্পর্কেও বিদেশিদের মনে তৈরি করে বিরূপ ধারণা। তারা বিশ্বাস হারান। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভাবমূর্তি দেশের প্রভূত ক্ষতি সাধন করে। ফলে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং উন্নয়নের পথ আরো কঠিন হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। জনগণকে মিথ্যা তথ্য যাচাই করতে এবং গুজবে কান না দিতে উৎসাহিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। সচেতন জনগণকে এ সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
