মঙ্গলবার, জুলাই ১৪

রংপুরে দুরারোগ্য ১০০ রোগীকে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান বিতরণ

|| রংপুর প্রতিনিধি ||

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রংপুরে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ১০০ জন অসচ্ছল রোগীর মাঝে ৫০ লাখ টাকার সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাছাইকৃত প্রত্যেক রোগীকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী ও তাদের স্বজনদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আহসান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর গ্রুপের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার এবং হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মেরাজুল মহসিনসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগ, থ্যালাসেমিয়া এবং স্ট্রোকে প্যারালাইজড রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ভিত্তিক একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ও অসহায় ১০০ জন রোগীকে এই অনুদানের জন্য নির্বাচন করা হয়। ইতিমধ্যে আনোয়ারা বেগম, জয়নাল আবেদীন, সামিউল বাসারসহ তালিকাভুক্ত সকল উপকারভোগী এই সহায়তা পেয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “গুরুতর রোগে আক্রান্ত অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। চিকিৎসার ব্যয় সামাল দিতে অনেক দরিদ্র পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অত্যন্ত সহায়ক হবে এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল আহসান সরকার বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অসহায় রোগীদের নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের সুযোগ না রেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে অনুদানপ্রাপ্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ভার লাঘবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *