বুধবার, জুন ১৭

রেলপথে যাতায়াত নিরাপদ করতে চালু হবে বৈদ্যুতিক ট্রেন: প্রধানমন্ত্রী

|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||

রেলপথে যাতায়াত আরও নিরাপদ, আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব করতে দেশের প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে সড়কে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এছাড়া ঢাকার ওপর থেকে যানবাহনের চাপ কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক এবং যানজট নিরসনে বিভিন্ন ইন্টারসেকশনে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।

যোগাযোগ খাতের চলমান ও প্রক্রিয়াধীন মেগা প্রকল্পগুলোর চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক, বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু, শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহনের মূল মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তুলতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে মোট ২৪টি প্রকল্প নির্ধারণ করে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পুরো রেল নেটওয়ার্ককে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যেন যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজে ট্রেন চলাচল করতে পারে। এছাড়া রেলের সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প মেয়াদে (২০২৬-২৭) ১৩টি, মধ্য মেয়াদে (২০২৭-৩০) ৩১টি এবং দীর্ঘ মেয়াদে (২০৩১-৪৫) ১৮৮টি নতুন আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন চালুর প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যা সাধারণ মানুষের রেল ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *