সোমবার, মে ৪

খুলনায় নিম্নআয়ের এলাকায় পানি ও স্যানিটেশন উন্নয়নে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রকল্প

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

খুলনা মহানগরীর নিম্নআয়ের বসতিগুলোতে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন কার্যক্রমের ইনসেপশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এ সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ওয়াসা নগরীতে পানি সরবরাহ করলেও এখনো অনেক এলাকায় সেই সেবা পৌঁছায়নি। বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইউনিসেফের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর “বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীল টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন” প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের লক্ষ্য শহরজুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাস্তুহারা, রূপসা চর, গ্রিনল্যান্ড ও মন্টুর কলোনী এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, এসব এলাকায় পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৪৭ শতাংশ মানববর্জ্য ড্রেন বা উন্মুক্ত জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু সহনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নির্দিষ্ট সময়ে অপসারণের মাধ্যমে শতভাগ নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্প এলাকায় আরও ১০টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি শিশু কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বাস্তুহারা এলাকায় দুটি প্লান্ট নির্মাণ করে সরবরাহকৃত পানি পরিশোধনের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে ময়ূর নদীকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নদীটি রক্ষা না করলে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়বে। পাশাপাশি নদীকে উন্নত করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ইগনে কাসেন, ইউনিসেফের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর পিটার মাসসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপস্থাপনাও করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *