
|| বিশেষ প্রতিনিধি | বরিশাল ||
তিন বছরের কন্যাসন্তানকে জোর করে কেড়ে নেওয়া, মারধর, বেআইনি আটক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বরিশালের বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শক (এসআই) সহ একাধিক পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এ সংক্রান্ত একটি সি.আর মামলা (নম্বর: ৩৩৬/২০২৬) দায়ের করেন মো. জালিছ মাহমুদ (২৬) নামের এক রাজমিস্ত্রি। মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান (৪৫) ও এসআই মোঃ জাহিদকে (৪০) প্রধান আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা এলাকার ফকিরবাড়ির বাসিন্দা জালিছ মাহমুদের সাথে তাঁর সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। দেনমোহর ও খোরপোষের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পর তাঁদের ৩ বছর বয়সী শিশু কন্যা হুমায়রা জান্নাত বাবার কাছেই বড় হচ্ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওসি মজিবুর রহমানের নির্দেশে এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য জালিছ মাহমুদের বাড়িতে চড়াও হন। তল্লাশির অজুহাতে এসআই জাহিদ তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্য পুলিশ সদস্যরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাঁকে নীলাফুলা জখম করেন। পরবর্তীতে তাঁকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাবার কাছে থাকা ৩ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর সাবেক স্ত্রীর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে জালিছ মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা জুবায়ের জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮৫, ৩৬৩, ৩৪২, ১৬৬ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ পর্যালোচনা করে এএসপি (সহকারী পুলিশ সুপার) বা তাঁর ওপরের পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সংযোগ কেটে দেন। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
