
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া, উচ্ছেদ জটিলতা, আর্থিক অনিয়ম ও ঠিকাদারি অব্যবস্থাপনার কারণে থমকে গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। প্রায় ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় একাধিকবার বাড়ানো হলেও প্রায় সাড়ে তিন বছরে কাজের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দরটির কাজ শেষ হওয়া নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ধীরগতির কারণে সময় বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত আশা করা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চিলমারী নদীবন্দর বাস্তবায়নে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে আড়াই একর জমিতে যাত্রী ছাউনি, পারাপারের জেটি, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন অফিস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার এবং আনসার ব্যারাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ জমি অধিগ্রহণের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ২৯ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা দিলেও দীর্ঘ ১০ মাসেও ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের অন্তত ৭০ শতাংশ কাজ অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ভূমি সংক্রান্ত মামলার জটিলতা ও ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় অন্তত ২৩ থেকে ২৪ জন জমির মালিক জমি ছাড়তে পারছেন না, যা জেটিসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের আওতায় মানহীন ও ‘রিজেক্টেড’ পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্থান পরিদর্শনের সময় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও তৎকালীন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য এসব নিম্নমানের পাথর দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে চিলমারী নদীবন্দরের ৬টি পয়েন্ট থেকে বার্ষিক ৭ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে। প্রকল্পটি সময়মতো ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়িত হলে আন্তঃদেশীয় নৌ-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পের ধীরগতি ও দুর্নীতির তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
