Sunday, August 23

মিলাদুন্নবী: পর্ব-০৫ | বিশ্বনবী মুহাম্মদ মোস্তফা রাহমাতাল্লিল আলামিন (স.)

আরব মরুভূমির মক্কার অধিবাসীরা বিভিন্ন গোত্র, ধর্ম এবং ধর্মহীনভাবে বসবাস করত। কেউ ছিল আল্লাহর একত্ববাদে অস্বীকারকারী। কেউ ছিল আল্লাহকে অস্বীকারকারী। তারা আল্লাহর সাথে শিরক করে কাবার গৃহে ৩৬০টি মূর্তি রেখে মূর্তির পূজা অর্চনা বা এবাদত করে এক উশৃংখল জীবন-যাপনে মত্ত ছিল। সে যুগ সন্ধিক্ষণে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন, বিপ্লবী দাওয়াত- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এই ঘোষণার সাথে সাথে আরব ভূমিতে ভূমিকম্পের মতো মানুষের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠলো। এই ঘোষণার পূর্বে তিনি আরব জাহেলী যুগের মানুষের নিকট আল-আমিন নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সবার নিকট প্রিয় ছিলেন। তার অনেক প্রিয়জন ছিল, বন্ধু ছিল কিন্তু একটি বাক্যের কারণে অনেকে তাঁর শত্রুতে পরিণত হলো। কি নিহিত আছে এ বাক্যের মধ্যে। যে বাক্য পাঠ ও স্বীকার উক্তিতে মানুষ মানুষে ব্যবধান সৃষ্টি হয় ।

এ বাক্যটির সহজ সরল নামকরণ হলো কালিমা তাইয়্যেবা, অর্থাৎ পবিত্র বাক্য। যা পাঠ করলে একজন মানুষ শিরক ও কুফর মুক্ত হয়ে পবিত্রতা লাভ করে। আল্লাহ তায়ালাকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, প্রভু ও বিধানদাতা বলে স্বীকার করা হয়। তখন মানুষ মানুষের গোলামী থেকে মুক্তি লাভ করে। আল্লাহর বান্দা হিসাবে স্বীকৃতি পায়।

এই বাক্যটি জাহেলিয়া আরব সমাজের গোড়ায় আঘাত হানে। মানুষের অন্তরে আলোড়ন সৃষ্টি হলো। তাই তাদের কায়েমি স্বার্থ রক্ষার্থে রাসূলের বিরোধিতা শুরু করল। রাসুল সা. এই দাওয়াতের কাজ খুব নীরবে নিস্তব্ধে নিজের আপনজনদের কাছে প্রথম শুরু করলেন। সর্বপ্রথম রসূলের সহধর্মিনী খাদিজাতুল কুবরা ইসলাম গ্রহণ করেন। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে রসুলের প্রিয় বন্ধু হযরত আবু বকর সিদ্দিক ইসলাম গ্রহণ করেন। বালকদের মধ্যে রসুল সা এর স্নেহধন্য চাচাতো ভাই হযরত আলী ইসলাম গ্রহণ করেন। আজাদকৃত দাস থেকে খাদিজাতুল কুবরার ক্রীতদাস যায়েদ বিন হারেসা প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেন।

হেরা পর্বতের গুহায় সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলের উপরে নতুন করে অনেকদিন হয়ে গেল কোন ওহী অবতীর্ণ হয়নি। এসময় মাঝেমধ্যে তিনি অদৃশ্য থেকে আদেশ শুনতে পেতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তার কি কোন ভুলের কারণে বাণী বাহক বা মহান প্রভুর পরবর্তী নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অতঃপর
ওয়ারাকা বিন নওফালের সে আশার কথা স্মরণ করে নবী করীম (সা) আশা ও আশংকার দোলায় দোলায়িত হয়ে পুনরায় হেরা গুহায় ধ্যানে ফিরে গেলেন এবং ওহি নাযিলের অপেক্ষা করতে লাগলেন। এভাবে রামাযান শেষে বাড়ী অভিমুখে ফিরে আসার সময় পুনরায় ওহী অবতীর্ণ শুরু হলো।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমন সময় আমি আসমান থেকে একটা আওয়ায শুনতে পাই। তাকিয়ে দেখি যে, সেদিনের সেই ফেরেশতা আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী এলাকায় কুরসীর উপরে বসে আছেন। আমি ভীত-বিহবল হয়ে মাটিতে পড়ে যাবার উপক্রম হই। অতঃপর দ্রুত বাড়ী ফিরে স্ত্রীকে বলি, আমাকে চাদর মুড়ি দাও, চাদর মুড়ি দাও’। কিন্তু না অল্পক্ষণের মধ্যেই গুরুগম্ভীর স্বরে ‘অহি’ নাযিল হ’ল-
يَآ أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ- قُمْ فَأَنذِرْ- وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ- وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ- وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ-
(১) ‘হে চাদরাবৃত! (২) উঠো, মানুষকে (আল্লাহর) ভয় দেখাও, (৩) তোমার প্রভুর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর, (৪) তোমার পোশাক পবিত্র রাখো, (৫) অপবিত্রতা পরিহার কর’(সূরা মুদ্দাছছির ১-৫ আয়াত)। এরপর থেকে ওহী-র অবতরণ চালু হয়ে গেল’। (চলবে ইনশাল্লাহ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *