
|| অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক ||
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির মধ্যেও দেশের খোলাবাজার ও ব্যাংকিং খাতে মার্কিন ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আমদানি বিলের চাপ, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক কমতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এ চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান বাজারসংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মতিঝিলের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার ১২৬ টাকা থেকে ১২৬ টাকা ৪০ পয়সায় কেনা হচ্ছে এবং বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায়। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খোলাবাজারে ডলারের দাম প্রায় দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আন্তব্যাংক বাজারেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডলারের দাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়হার ১২৩ টাকা ৮১ পয়সায় পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এলসি (ঋণপত্র) দায় পরিশোধে কোনো কোনো ব্যাংককে প্রতি ডলারের জন্য ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) আমদানি ব্যয় ৬.২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ কমে নেমেছে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে। এতে করে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি-পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানির ব্যয় আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর জুনে তা কমে ২৮২ কোটি এবং জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলারে নেমে আসে। রেমিট্যান্সের এই সাময়িক ধীরগতিও সরবরাহে কিছুটা টান ফেলেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডলারের দর নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা ও অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সকল চ্যানেলে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা দরে কেনার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডলারের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে।
