
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
মানিকগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতে চরম নৈরাজ্য, শয্যা জালিয়াতি, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার নামে রমরমা বাণিজ্য ও আয়নাবাজি শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌসীর নেতৃত্বে মানিকগঞ্জের শিশু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল (জয়রা রোডের শিশু হাসপাতাল নামে পরিচিত), মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আল-রাফি মেডিকেল সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স, অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা, চিকিৎসক ও জনবলের উপস্থিতি, রোগী ভর্তি, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এসময়, মানিকগঞ্জের শিশু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে কেন শুধু শিশু হাসপাতাল নামে পরিচালিত হচ্ছে তার জবাবদিহি চাওয়া হয়। পরে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা, বিভিন্ন অব্যস্থাপনা নিয়ে সতর্ক এবং অনুমোদিত শয্যার চেয়ে অধিক শয্যা না রাখার বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয় সিভিল সার্জন। অভিযানের সময় মানিকগঞ্জ শিশু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই সপ্তাহের মধ্যে লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র হালনাগাদ ও অন্যান্য ত্রুটি সংশোধন করবে অঙ্গীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়ে সময় প্রার্থনা করে।
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌসী বলেন, “সংবাদে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোর সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে। লাইসেন্স, জনবল ও সেবার মানে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য বিভাগের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যসেবার নামে অনিয়ম ও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র দৈনিক ইনকিলাব এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ, অনুমোদিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং চিকিৎসাসেবার নামে নানা অনিয়ম তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের গেট থেকে দালাল দিয়ে রোগী ভাগিয়ে আনা, লাইসেন্সের মেয়াদ ছাড়াই বছরের পর বছর কার্যক্রম চালানো এবং ২০ শয্যার অনুমোদন নিয়ে প্রায় ৮০ শয্যার বাণিজ্য করা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে। আইনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায়ই এক ‘চিকিৎসা বাণিজ্য’ চলছিলো যেখানে সেবার নামে এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের পকেট কাটাই ছিলো মূল লক্ষ্য এবং সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই পর্দার অন্তরাল থেকে তার কলকাঠি নাড়ছিলেন।
এসময়, প্রতিবেদনে মানিকগঞ্জ শিশু এন্ড জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালের অনিয়মের প্রমাণ তুলে ধরা হয়।
