
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা নগরীতে ভাঙারি ব্যবসায়ী আশিকুর রহমানকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে দুই অস্ত্রধারী যুবক। তবে হামলাকারীদের ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। গুলির একটি দোকানের সাইনবোর্ডে এবং আরেকটি দোকানের ভেতরের দেয়ালে গিয়ে লাগে। এতে দেয়ালে গুলির চিহ্ন ও ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নগরীর সদর থানাধীন বাগমারা চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত সড়কের পাশে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় আশপাশের ব্যবসায়ী, দোকানদার ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে আশিকুর রহমান বাগমারা মেইন রোডের মা মোটরস নামের একটি দোকানে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় দুই যুবক সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর দুইবার গুলি ছোড়ে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি অক্ষত থাকেন। হামলার পর অস্ত্রধারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানের সাইনবোর্ড ও ভেতরের দেয়ালে গুলির আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।
আশিকুর রহমান নগরীর ৮৪, শের-এ-বাংলা রোড, হাজী বাড়ির মোড় এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম গুলিবর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হামলাকারীরা কারা এবং কী কারণে ওই ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, হামলার সঙ্গে কথিত পলাশ গ্রুপের সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, এর আগে আশিকুরের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছিল। তবে গুলির ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির বিষয়টি সরাসরি যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খুলনা জোনের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজি, পূর্ববিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ থেকে হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। প্রকাশ্য সড়কে দিনের বেলায় অস্ত্রের ব্যবহার এবং গুলির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
