Saturday, July 18

বাগমারায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগ: ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন

|| জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এক নারী উদ্যোক্তার বৈধ ডিশ সংযোগ ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতারা। তারা বলছেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডিশ ব্যবসায়ী মোসা. ফাইমা খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন উপস্থিত থেকে তার দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন বলেন, তার স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু ২০১০ সাল থেকে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, পলাশী, চন্দ্রপুর, উদপাড়া, ডাংগাপাড়া ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈধভাবে ডিশ সংযোগ ব্যবসা পরিচালনা করতেন। প্রয়োজনীয় সরকারি লাইসেন্স গ্রহণ এবং নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তারা একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ব্যবসার যন্ত্রপাতি, তার ও অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইমন তাদের ব্যবসায় হামলা চালিয়ে ডিশ সংযোগের মেশিন ও তার খুলে নিয়ে যান। এ সময় তাকে এবং তার সন্তানদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তার স্বামী এবং পরবর্তীতে তিনি একাই সংসার ও ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি ব্যবসার কিছু অংশ আবার সচল করতে সক্ষম হন।

সংবাদ সম্মেলনে ফাইমা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম তাদের ডিশ সংযোগের লাইন ও ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি বাগমারা থানা, সেনাবাহিনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে কোনো উদ্যোগই কার্যকর হয়নি বলে তার দাবি।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় আসাদুল ইসলাম তাকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি একা না গিয়ে নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

ফাইমা খাতুনের ভাষ্য, আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেন। তিনি এতে রাজি না হলে গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তার গলার চেইন, ব্যাগ ও মোবাইল ফোন টানাহেঁচড়া করে নিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতে আসাদুল ইসলাম নিজেই আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ প্রচার করেন। বাস্তবে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা বলেন, তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর বা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নন। একজন অসহায় নারীর অনুরোধে তার নিরাপত্তার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। অথচ প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান। পাশাপাশি ফাইমা খাতুন যেন তার বৈধ ডিশ সংযোগ ব্যবসা পুনরুদ্ধার করে নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ না থাকায় এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *