
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল স্রোতে কাঁচকোল ডানতীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে আকস্মিক ভাঙনে কাঁচকোল ও সড়কটারী এলাকার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটির প্রায় ১৬০ মিটার অংশের কংক্রিট ব্লক, বোল্ডার ও জিও ব্যাগ মুহূর্তের মধ্যে তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে পুরো অঞ্চলের বসতভিটা ও রাস্তাঘাট মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটানো নদীপাড়ের বাসিন্দা বারী ও রেজাউল বলেন, “বাঁধের ওপারেই নদী ভাঙছে, আমরা এপারে থাকি। আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারি না, চমকে উঠি। বাঁধটা ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা সব বন্যায় ভেসে যাবে। আমরা শুধু বাঁচতে চাই, বাঁধটা যেন স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, নদের মাঝখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে টি-বাঁধ বা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান ও চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছে।
ইউএনও জানান, বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে আপাতত ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে শুষ্ক সময়ে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ ও স্থায়ী মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, নদের ভাঙন ও তীব্র স্রোত মোকাবিলায় আপদকালীন কাজ হিসেবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। বর্ষা শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ ডানতীর রক্ষা বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
