
|| লিটন হোসেন | নিজস্ব প্রতিনিধি (নওগাঁ ও জয়পুরহাট) ||
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবশেষে আইনি ও বৈধ প্রক্রিয়া মেনে সড়কের পাশের গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ, নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাছের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি রক্ষার স্বার্থেই সরকারি নিয়মনীতি মেনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি সড়কের পাশে ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বেশ কিছু ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশকে গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়ক দিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ আটকে ছিল। এছাড়া, ইউক্যালিপটাস গাছের শিকড় ও অতিরিক্ত ছায়ার কারণে সড়কের পাশের কৃষিজমিতে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই গাছগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গাছগুলো কাটার পূর্বে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিলামের আয়োজন করে ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর’ (এফডব্লিউএডি)। গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এই উন্মুক্ত নিলামে বিভিন্ন এলাকার ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা দর হেঁকে গাছগুলো কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ।
এই নিলাম প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন করতে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডি-এর চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, গ্রামপুলিশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরদিন থেকেই ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা গাছ কাটার কাজ শুরু করেন।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, গাছগুলো কেটে ফেলার ফলে সড়কটি প্রশস্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে, সড়ক দুর্ঘটনা কমবে এবং কৃষকরা তাদের জমিতে পুরোদমে ফসল ফলাতে পারবেন।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম জানান, “এখানে কোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়নি। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকেও যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে।
