
|| সারোয়ার হোসেন অপু | জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) ||
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সবখানেই আইন অমান্য করে গড়ে উঠেছে বেশকয়েকটি করাতকল (স’মিল)। এর মধ্যে পরিবেশ আইন ও করাতকল বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একদম কোল ঘেঁষে চলছে এসব মিল। এর ফলে একদিকে যেমন শব্দ ও বায়ু দূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয় মানুষ, অন্যদিকে দিন-রাত নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে উজাড় হচ্ছে এলাকার সবুজ প্রকৃতি।
করাতকল বিধিমালা অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানার ভেতর বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ বদলগাছীর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনেই একটি স’ মিল। তাছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার অধিকাংশ স’মিলেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স বা বন বিভাগের ছাড়পত্র নেই। রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই অবৈধ স’মিলগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গাছখেকো চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও সড়ক থেকে ফলদ, বনজ এবং ঔষধি গাছ কেটে এনে এসব মিলে সাবাড় করা হচ্ছে। এমনকি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারেও অনেক মিলে গাছ চেরাই চলে।
হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলার কারণে বদলগাছীর চিরচেনা সবুজ প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে। কমে যাচ্ছে পাখির আবাসন, ভারসাম্য হারাচ্ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
স’মিলগুলোর তীব্র শব্দের কারণে সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। মিলের কাঠের গুঁড়ো বাতাসে উড়ে আশপাশের বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে পড়ছে। এতে স্থানীয় মানুষের শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও চোখের নানাবিধ রোগ বাড়ছে। এছাড়া ফসলি জমির পাশে স’মিল থাকায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি কৃষকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ফরিদুল ইসলাম টুটুল বলেন; বদলগাছী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনেই রয়েছে একটি স’মিল। এতে সাধারণ রোগী ও পথচারীদের অনেক সমস্যা। এবং বদলগাছী কেন্দ্রীয় কালী মন্দির ও লাবন্য প্রভা গার্লস স্কুলের অদূরে রয়েছে আরও দুইটি স’ মিল। এই রাস্তার পাশে স’মিল থাকার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ছে। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদলগাছীতে দ্রুত এই অবৈধ স’মিলগুলোর বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানো দরকার।
এই বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার বন কর্মকর্তা (অতি.) খাইরুল ইসলাম বলেন, অতিশীঘ্র এই লাইসেন্স বিহীন স’মিল বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এখনই যদি এই “ব্যাঙের ছাতার মতো” গড়ে ওঠা স’মিলগুলো বন্ধ করা না যায়, তবে অচিরেই বদলগাছী উপজেলা এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
