Thursday, July 16

স্মৃতির পাতায় তালাবা: পর্ব-৩

সংগঠন কায়েম:

এখন আমাদের কাজ ফেনী জেলার আওতাধীন মাদ্রাসাসমূহে ক্রমান্বয়ে তালাবার কমিটি গঠন করতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করলাম। কাজ করার একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিলাম তালাবায়ে আরাবিয়ার ১৭ দফা সম্বলিত হ্যান্ড বিল।

এ কাজে সহযোগিতার জন্য আমি পেয়েছিলাম এক ঝাঁক তরুণ উদ্দীপনাময় সংগী। তাদের ভালোবাসা, আন্তরিকতা, আনুগত্য, নেতৃত্বের নির্দেশনা মান্যকারী, যা কল্পনা করা যায় না। নেতৃত্ব, নিঃস্বার্থ কর্মীবাহিনী ও আনুগত্য একটি সংগঠনের জন্য অপরিহার্য অঙ্গ। যা আমি ছাত্রজীবনে পেয়েছিলাম।

তাদের মধ্যে থেকে যাদের কথা স্মরণ আছে, তাদের কথা না বললেই নয়। বিশেষ করে আমার সময় সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছিল আমাদের এক ভাই একরামুল হক। তিনিই আজ আমাদের মধ্যে নেই। তিনি ইসলামী ঐক্য আন্দোলন চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল ছিলেন। আল্লাহতালা তাকে জান্নাতবাসী করুন।
তিনি ছাড়া শহিদুল্লাহ ফারুকী, তিতাস গ্যাসের ডিজিএম থেকে অবসরপ্রাপ্ত। কাজী সাইফুদ্দিন এক সময় তালাবায়ে আরবিয়ার সেক্রেটারি হয়েছিলেন এবং ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। এয়ার আহমেদ তিনি বর্তমানে আমেরিকার প্রবাসী। আন্দোলনের খোঁজখবর রাখেন। কাজী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সাথে কাজ করেন। আব্দুল কাদের ভূঁইয়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ঢাকায় অবস্থান করেন। হোসাইন আহমেদ, বর্তমানে ছাগলনাইয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। আব্দুল মতিন ফরাজী যিনি বর্তমানে ঢাকায় শিক্ষকতা করেন। তিনি বর্তমানে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহানগরের দায়িত্বশীল এবং মজলিসে শূরার সদস্য। আরো অনেকে যা এ মুহূর্তে স্মরণে আসছে না।

এই দায়িত্বশীলদেরকে নিয়ে আমরা টার্গেটকৃত মাদ্রাসায় গিয়ে প্রথমে অধ্যক্ষ বা সুপারেনটেন ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করি এবং আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ১৭ দফা কর্মসূচি ব্যাখ্যা করি। তাঁরা এতে সন্তুষ্ট হলে তাদের সহযোগিতায় মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে একত্রিত করে একটি সমাবেশ করার অনুমতি গ্রহণ করি। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে এবং কোথাও কোথাও অধ্যক্ষের সহযোগিতায় ছাত্রদেরকে নিয়ে একটি কক্ষে সমাবেশ করি। সমাবেশে তখনকার সময়ের সামাজিক ও মাদ্রাসা শিক্ষার পরিবেশ ইত্যাদিকে সামনে নিয়ে ১৭ দফার উপর আলোকপাত করা হতো। অতঃপর তালাবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তাদেরকে অবহিত করা হতো। এভাবে আমরা বিভিন্ন মাদ্রাসায় কমিটি গঠন করি। দুই বছরের মধ্যে প্রায় ৩০ অধিক মাদ্রাসায় সংগঠন কায়েম করা হয়।

আমরা চেষ্টা করেছি প্রত্যেকটি মাদ্রাসা কমিটির দায়িত্বশীলদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসার। সেভাবে আমরা প্রায় সময় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতাম। তখনকার সময়ের যারা তালাবায়ে আরাবিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন, বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যারা ছিলেন, তাদের অনেকে আজকে বিভিন্ন মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, প্রভাষক, সুপারিনটেনডেন্টের ইত্যাদি দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করছেন। (চলবে…)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *