
|| স্পোর্টস ডেস্ক ||
আগামী জুন মাসে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে পর্দা উঠতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আর এই মেগা ইভেন্টে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ব্যাটন থাকবে নিগার সুলতানা জ্যোতির হাতে। আসন্ন এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের পেস কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে টাইগ্রেসদের বিশ্বকাপের পুরনো ইতিহাস পুরোপুরি বদলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আজ রবিবার (২৪ মে) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করেন জ্যোতি।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত খেলা ২৫টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর দীর্ঘ সময় জয়হীন থাকতে হয়েছিল টাইগ্রেসদের। এরপর সবশেষ ২০২৪ সালের আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি কাঙ্ক্ষিত জয়ের মুখ দেখেন জ্যোতিরা। অতীতের এই পরিসংখ্যান নিয়ে অধিনায়ক বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা দীর্ঘ সময় জয়হীন ছিলাম, তবে আমি বিষয়টিকে মোটেও চাপ হিসেবে দেখছি না। বরং এটিকে আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাস পরিবর্তনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। গত বিশ্বকাপে দুবাইয়ের মাটিতে ম্যাচ জেতাটা আমাদের দারুণ অনুভূতি দিয়েছিল, যদিও পরের ম্যাচগুলো আমরা জিততে পারিনি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের দলীয় কম্বিনেশন অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন দলে আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্রিকেটার পারফর্ম করতে মুখিয়ে আছে। আমরা বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জিতে জয়ের সংখ্যা বাড়াতে চাই।
দলীয় স্কোয়াডে মাত্র দুজন মূল পেসার (মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা) থাকা নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় ওঠা প্রশ্ন অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক। পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিতু মনিকে তৃতীয় সিমার হিসেবে কার্যকরী বিকল্প উল্লেখ করে নিগার বলেন, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে কেন মাত্র দুজন পেসার নেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্নের মুখোমুখি আমাকে প্রায়ই হতে হচ্ছে। মূল বিষয় হলো, মারুফা ও ফারিহা গত ছয় মাস ধরে দলের সঙ্গে একটানা খেলছে এবং তারা শতভাগ প্রস্তুত। মারুফা দারুণ ধারাবাহিক, আর তৃষ্ণাও নিজেকে প্রমাণ করেছে। গত সিরিজে সুযোগ পেয়েই সে নিজের ছাপ রেখেছে। তাই যারা ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি তৈরি, তাদের ওপরই আমরা ভরসা রাখছি।
এদিকে নিজের চোট ও ফিটনেস নিয়ে চলা সব জল্পনা-কল্পনারও স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। দীর্ঘদিনের চোট সামলানোর পাশাপাশি ফিটনেসে বাড়তি মনোযোগ দিতেই তিনি ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) গত আসরে খেলেননি বলে জানান। নিজের ফিটনেস নিয়ে তিনি বলেন, আমার ফিটনেস নিয়ে কেন বারবার প্রশ্ন ওঠে তা আমার জানা নেই। সত্যি বলতে, আমার ডান হাতের বুড়ো আঙুলের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে এবং সেখানে কোনো লিগামেন্টই নেই। এই চোট নিয়েই আমি বছরের পর বছর খেলছি। আসলে বিশ্বের কোনো ক্রিকেটারই চোটহীন নয়, ছোটখাটো সমস্যা সবাইকেই সামলে নিতে হয়। আমি শতভাগ ফিট দেখেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছি এবং মাঠের খেলায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিশ্বকাপ মিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। এরপর গ্রুপ পর্বে ১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন পাকিস্তান, ২৫ জুন ভারত এবং ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে টাইগ্রেসরা।
