শুক্রবার, মে ১

শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মাহদী আমিন

|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||

শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দু’টি হাতই রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তিনি নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টি, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক নতুন ভিত্তি দিয়েছে, যা আজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন প্রতিবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং শ্রমিক পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম শ্রমঘন খাত তথা পোশাক শিল্প আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে এসব উদ্যোগের বড় অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা একটি দায়িত্বশীল সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রাধান্য ঠিক তাই। শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *