
|| রবিউল আউয়াল | বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ||
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে অনবরত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। দিন-রাত মিলে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য। শহর এলাকার তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের সাধারণ এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে স্থবিরতা নেমে এসেছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতারা দোকানে এসে অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুতের অভাবে মালামাল না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে অনলাইন সেবা গ্রহীতাদের দুর্ভোগ তুলে ধরে রবিউল অনলাইন কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক ও বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক এবং আলোকিত দৈনিক-এর বদলগাছী প্রতিনিধি মোঃ রবিউল আউয়াল বলেন, “দিনে-রাতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ ভূমিসেবাসহ নানা অনলাইন সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত এর সমাধান না হলে জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার ও চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি ও গ্যাসের ঘাটতি এবং সঞ্চালন লাইনের জটিলতার কারণে চাহিদানুযায়ী সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ফ্যান, এসি ও সেচপাম্প একযোগে চলায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বদলগাছীতেও।
এ বিষয়ে বদলগাছী পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার সরকার জানান, “লোডশেডিং এখন মূলত একটি জাতীয় সমস্যা, সব জায়গায় প্রায় একই অবস্থা। তবে ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক কারণে কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগের সাময়িক সমস্যা দেখা দিলে তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
