
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলা থামছে না। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে চালানো নতুন দফা হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবানিজ কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এই হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, টায়ার শহরের নিকটবর্তী মাজদাল জোনের একটি ভবনে প্রথম দফায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, সেখানে উদ্ধারকাজ চলাকালীন পুনরায় হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফার এই হামলায় তিন সিভিল ডিফেন্স কর্মী প্রাণ হারান, যারা আগের হামলায় আহতদের সহায়তা করছিলেন। লেবাননের সেনাবাহিনী ও সিভিল ডিফেন্স নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।
লেবানিজ প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রাণ ও জরুরি সেবা কর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো এই আক্রমণ ধারাবাহিক বর্বরতারই অংশ। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের তিবনিন ও শাকরা শহরে ইসরায়েলি হামলায় দুজন এবং জুয়ায়া শহরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার সামরিক বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, লেবাননের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্তানুসারে ইসরায়েলের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। নেতানিয়াহুর দাবি, এই ‘অ্যাকশন’ বা ব্যবস্থা গ্রহণের স্বাধীনতা যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তিরই অংশ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ও হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২,৫২১ জন নিহত এবং ৭,৮০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আলোচনার মধ্যেই বেসামরিক ও উদ্ধারকর্মীদের ওপর এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
