
অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া
কাবা শরীফ থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে হেরা পর্বত বা জাবালে নূর অবস্থিত। তার উচ্চতা প্রায় ২১০০ ফিট। এ পর্বতে যে গুহাটি আছে তাকে বলা হয় হেরা পর্বতের গুহা। এ পর্বত গুহায় সাধারণভাবে উঠতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা। এখন পাহাড়ের চূড়ায় উঠার জন্য অনেক স্বাভাবিক রাস্তা করা হয়েছে। রাসুলের যুগে এই ধরনের কোন কিছুর চিহ্ন ও ছিল না। ছিল শুধু কিছু পাথর খন্ড আর পাহাড়ী গাছ গাছালি ভরা জংগল।
মরুভূমির জন মানব শূন্য এ পাহাড়ের চূড়ায় হেরা নামক গুহায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর মুক্তির জন্য ধ্যানে মগ্ন হলেন।
এ ধ্যানমগ্নের সময়কাল ১,২ দিন না, মতান্তরে ৫ থেকে ১৫ বছর। ধ্যানমগ্ন অবস্থায় প্রায় কয়েকদিন গুহায় অবস্থান করতেন, বাসায় ফিরে যেতেন না। ইতিহাসে পাওয়া যায় রসুল সা. বাসায় ফিরে না আসলে খাদিজাতুল কুবরা রসুল সা.এর জন্য খাওয়া প্রস্তুত করে গুহায় নিয়ে এসে তাকে দিয়ে যেতেন।
দীর্ঘদিন ধ্যান সাধনার পরে একদিন অচেনা একজন ব্যক্তি এসে তার নিকটবর্তী হয়ে সামনাসামনি বসলেন। রসুল সা কে বললেন, আপনি পড়ুন। রাসূল বললেন, আমি পড়তে জানি না। এভাবে তিনবার তাঁকে বললেন, তিন বার একই উত্তর দিলেন। অতঃপর হযরত জিব্রাইল আ. তাঁকে জড়িয়ে ধরে ঝাঁকি দিলেন এবং সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত পাঠ করে শুনালেন। এরপর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আলাকের প্রথম সে পাঁচটি আয়াত সাথে সাথে পড়ে তাঁকে শুনিয়ে দিলেন। জিবরাইল আ. গুহা থেকে চলে গেলেন।
জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন শিক্ষকের মতন তাঁকে পড়তে বলা, তাঁকে জড়িয়ে ধরে ঝাকুনি দেওয়া এবং চলে যাওয়া, এসব ঘটনায় রসুল সা কে চিন্তিত করে তোলেন। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন, এর পরপরই তিনি বাসায় ফিরে আসলেন। খাদিজাতুল কুবরা কে বললেন, আমার ভয় পাচ্ছে, জ্বর আসতেছে আমাকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরো। রসুলের মুখ থেকে খাদিজাতুল কুবরা সমস্ত ঘটনার জানলেন। খাদিজাতুল কুবরা বুদ্ধিমতি মহিলা অভিভাবকের মতো রসুল কে বললেন, আপনার ক্ষতি কেউ করতে পারে না। কারণ আপনি কারো ক্ষতি করেন না। এরমধ্যে নিশ্চয় কোন মঙ্গল নিহিত আছে। আমার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাউফেল তিনি তাওরাত ও যবুর কিতাবের বিশেষজ্ঞ ।আপনাকে আগামী দিন তাঁর নিকট নিয়ে যাওয়া হবে। ওয়ারাকা বিন নাউফেলের নিকট যাওয়ার পর সমস্ত ঘটনা বর্ণনা দেয়া হলে। ওয়ারাকা বিন নাউফেল শুনে বলেন, তিনি তো শেষ জামানার নবী। যার বর্ণনা তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে দেওয়া হয়েছে। তাঁর নিকট আগন্তক ব্যক্তি ছিলেন হযরত জিবরাঈল আঃ যিনি আল্লাহতালার ওহী নিয়ে নবী রসুলের নিকট আসেন।
মরু আরবের মক্কা বাসীর নিকট যে লোকটি আল-আমিন নামে পরিচিত, তিনি আজ একজন রাসুল হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করলেন ৪০ বছর বয়সে। দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন জগতবাসীর মুক্তির জন্য।
জগৎবাসীর মুক্তির লক্ষ্যে তিনি মরু আরব বাসীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিলেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।” (চলবে ইনশাল্লাহ)
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও কেন্দ্রীয় আমীর, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন।
