
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
মানিকগঞ্জে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অর্ধদিবসব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় মানবপাচারের ঝুঁকি, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “মানবপাচার একটি ভয়াবহ সামাজিক অপরাধ। এই অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি। সন্দেহভাজন দালালচক্র ও মানবপাচারকারীদের বিষয়ে তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার দুরাখসা জাহান প্রিয়াঙ্কা, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন, তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন এবং মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
এ সময় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন এবং কো-অর্ডিনেটর রোমানা আফরোজ মানবপাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মানবপাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করা এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
