Tuesday, September 15

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক অবকাঠামো

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং বিমান বহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কথা স্বীকার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থা (ইন্সপেক্টর জেনারেল)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পেন্টাগন ও কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন বাহিনীর শত শত অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও বিপজ্জনকভাবে কমে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক অংশই ব্যবহৃত হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিচারে নিজেদের সেনা, সরঞ্জাম ও রসদ রক্ষায় স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এমনকি বাহরাইনে নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারত মহাসাগরের ডিগো গার্সিয়া দ্বীপকে নতুন সামুদ্রিক লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক অবকাঠামোতেও বড় আঘাত এসেছে। ওয়াশিংটনের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে তাদের বিভিন্ন কূটনৈতিক স্থাপনায় প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও দুবাইয়ে কনস্যুলেটে ড্রোন হামলায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া কুয়েত ও ইরাকেও মার্কিন দূতাবাস ও স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবার অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টিরও বেশি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল, ১টি এফ-৩৫, ১টি এ-১০, ৭টি কেসি-১৩৫ ফুয়েলিং বিমান, ১টি ই-৩ এওয়াক্স এবং ৩০টিরও বেশি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, সংঘাত শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৮০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সর্বাত্মক এই ক্ষয়ক্ষতির পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি ও নীতি নিয়ে ওয়াশিংটনে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্র: আল মায়াদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *