
|| আজিজুল হক | ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে গভীর রাতে এক বাড়িতে ঢুকে বেড়াতে আসা স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত এক যুবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ময়দাম গ্রামে। এ ঘটনায় আহত মো. হুমায়ুন কবির ওরফে আলতাফ (২৬) ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় বেড়াতে আসেন। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়লে রাত দুইটার দিকে একই এলাকার মো. শফি উদ্দিন (৫০), মো. মাসুদ রানা (৩০), মো. বকুল মিয়া (৫০), মো. মতিয়ার রহমান মতি (৪৫), মো. হাসেম আলী (২৫) ও মো. শরিফুল ইসলাম (২৪)-সহ কয়েকজন বেআইনিভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা বেড়াতে আসা স্বজনদের বিরুদ্ধে অনৈতিক অপবাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বাধা দিলে হুমায়ুন কবির গুরুতর আঘাত পান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের বিকাশ নম্বরে ১৯ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া স্বজন মো. জাকির হোসেনের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং মো. সুজন মিয়ার কাছ থেকে ২৬ হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, রাত থেকে ভোর প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রাখার পর অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হুমায়ুন কবিরকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা উল্টো খুন-গুম ও গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত হুমায়ুন কবির বলেন, “মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম। এ কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভূরুঙ্গামারী থানার চার্জ কর্মকর্তা (এসআই) মোঃ মনিবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এসআই শাহাজাহান আলী মন্ডলকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
