
|| গাজীপুর প্রতিনিধি ||
টঙ্গীতে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুরুল ইসলাম (৩৫) হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহার নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মামলায় প্রভাবশালী ও মূল হোতাদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে পুলিশি কার্যক্রমে অনাস্থা প্রকাশ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বাদীপক্ষের অভিযোগ পুরোপুরি আমলে না নিয়ে পুলিশ নিজেদের মতো করে এজাহার সাজিয়েছে।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার মিরাশপাড়া আলেরটেক নদীবন্দরসংলগ্ন জয়নাল কমিশনারের ইটভাটার মাঠে নুরুল ইসলামকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, হকিস্টিক ও লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন—টঙ্গীর পাগার এলাকার নুরুল ইসলাম খান ওরফে খান বাবু (৩৯), একই এলাকার তরিকুল ইসলাম জিহাদ (২১), ময়মনসিংহের তারাকান্দার বালিয়া এলাকার মামুন (২৬) এবং রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ এলাকার আরাফাত রহমান জনি (২৮)।
তবে গ্রেফতারের পরও এজাহারে আরও প্রভাবশালী ও মূল হোতাদের নাম না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান শ্রমিকদল নেতা নুরুজ্জামানের নামও তারা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের ভাতিজা খান বাবুর নাম নিয়েও তারা অভিযোগ করেন। যদিও খান বাবু ইতোমধ্যে এ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসা থেকে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও মামলার সব আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। তারা দাবি করেন, এজাহারের বাইরে যাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বাদী, নিহতের স্বজন ও প্রতিবাদকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।
নিহতের দুই মেয়ে চাঁদনী ও পূর্ণিমাও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিল। বাবার শোকে তাদের কান্নায় কর্মসূচিস্থলে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহতের বোন ও মামলার বাদী নুরজাহান আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এজাহারের বাইরেও আরও অনেকে আমার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমরা সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। আসামিরা এখনো এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”
সমাবেশে নূরে আলম আকন্দ, শাখাওয়াত হোসেন ও নিহতের মামা সাইদুল বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা বাদীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি বলেন, বাদীর অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িত যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এজাহারের বাইরে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তিনি যতই প্রভাবশালী হোন, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এজাহারে নাম নেই বলে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
