Wednesday, August 5

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত: কেসিসি প্রশাসক

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) আয়োজিত আলোচনা সভায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, জুলাই আন্দোলন ছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলন। শুরুতে এটি কোটা সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে শুরু হলেও পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সহস্রাধিক ছাত্র, জনতা ও শ্রমিক আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। এ কারণেই ৫ আগস্ট জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় নগর ভবন চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জুলাই আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন দেশের নেতৃত্বের ওপর বর্তেছে। তিনি বলেন, গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং একটি নতুন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন।

দিবসটি উপলক্ষে কেসিসি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর মধ্যে ছিল নগর ভবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতা, বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহিদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত, শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

এ ছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো কাগজের জাতীয় পতাকা, জুলাই আন্দোলনের বস্তুনিষ্ঠ ও দুর্লভ আলোকচিত্রসম্বলিত প্যানা ও ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। কর্মসূচির সমাপ্তিতে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টায় প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে বসুপাড়া কবরস্থানে শহিদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান।

অনুষ্ঠানে কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের শহিদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের স্মৃতিচারণ করেন তাঁর পিতা মো. আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো. মনিরুজ্জামান রহিম এবং সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম ফারাজী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *