
|| মির্জা নাদিম | গাজীপুর প্রতিনিধি ||
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চারটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় গত ১৮ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারের জন্য এলজিইডির ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর চার নেতার নাম গোপনে প্রস্তাব করা হয়। গোপনীয়তার সাথে পাঠানো এই প্রস্তাব-সংক্রান্ত নথিও এলজিইডিতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি হিসেবে কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আমিরুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উঠে আসায় তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পদে স্থায়ী নিয়োগ পাননি। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাব করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য মো. শাহজাহান আলীর নাম, যিনি বিগত সরকারের আমলে গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন।
অন্যদিকে, হাওর অঞ্চলের উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) পিডি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে কুয়েট ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দুটি প্রকল্পের পিডি মো. ফেরদৌস আহমেদের নাম। এছাড়া পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের পিডি হিসেবে সাবেক হুইপ মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতার চেয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
