
|| মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ||
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৩ নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে তৎপরতা বাড়ছে। এরই মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহীন হাদী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা তুলে ধরে তিনি দলীয় মূল্যায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মাহীন হাদী বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার্স ফ্যামিলির আহ্বায়ক এবং মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে মাহীন হাদী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। দল যাকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দল আমাকে মূল্যায়ন করবে- এটাই আমার প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করছি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দল যদি আমাকে আমড়াগাছিয়ায় চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়, তাহলে জনগণের সেবা ও ইউনিয়নের উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করতে চাই।’
তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে। দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি চাই, আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আমাকে মূল্যায়ন করুন।’
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান মাহীন হাদী। তাঁর ভাষ্য, সরকারি বরাদ্দ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অসহায় মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে চাই। চেয়ারম্যানের পদ আমার কাছে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার দায়িত্ব। কোনো মানুষ যেন তার প্রাপ্য সেবা পেতে দালাল, হয়রানি কিংবা অনিয়মের শিকার না হন- সেদিকে গুরুত্ব দিতে চাই।’
৩ নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন না থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য তাঁর নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি সরকারকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
মাহীন হাদী বলেন, ‘দল আমাকে নির্বাচনের সুযোগ দিলে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি সরকারকে ব্যবহারের সুযোগ দিতে চাই।’
দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও এবং তিনি যদি জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেন, তাহলে আমি তাঁর পাশে থাকব। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জন্য আমার নিজস্ব জমি বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।’ মাদক, দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাকে নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাহীন হাদী।
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের সহজে সেবা পাওয়ার জায়গা। প্রকৃত অসহায় মানুষ যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই নিশ্চিত করতে চাই।’
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ৩ নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
