
|| সারোয়ার হোসেন অপু | নওগাঁ প্রতিনিধি ||
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আলোচিত নারী আঁখি বেগম অভিযোগ করেছেন, স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িঘর ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মাদক মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি ও তার তিন শিশু সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আঁখির স্বামী মারা যান। এরপর তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ অবস্থায় মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। ফলে তার তিন সন্তান অসহায় হয়ে পড়ে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে মানবিক দিক বিবেচনায় আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
আঁখির দাবি, তার শাশুড়ির আগের পক্ষের ছেলে (ভাসুর) ও ননদ দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। তাকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আঁখির পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু জাহিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো ব্যক্তিকে মাদক সেবনের অভিযোগে দণ্ড দিতে হলে ঘটনাস্থলে মাদক সেবনের আলামত থাকতে হয় এবং ডোপ টেস্ট করা প্রয়োজন। কিন্তু আঁখির কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়নি, মাদক সেবনের কোনো সরঞ্জামও জব্দ করা হয়নি। জব্দ তালিকায়ও এমন কোনো আলামতের উল্লেখ নেই। ডোপ টেস্টও করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আঁখির অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামীর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে একটি চক্র এ ষড়যন্ত্র করেছে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তারাই মামলার সাক্ষী। কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”
জামিনে মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঁখি এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী এক টেলিভিশন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আঁখির দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে তার আইনজীবী বলেন, “মিথ্যা তথ্য প্রচার ও মানহানিকর মন্তব্যের মাধ্যমে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে তিন সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আঁখি। যেকোনো সময় তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচার তার মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আঁখি প্রশাসনের কাছে তার ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তদন্ত এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি একজন অসহায় বিধবা নারী ও তার তিন শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
