
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
তামিলনাড়ুর সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয় ঘোষণা করেছেন, ‘সবার আগে তামিল’। সোমবার (১০ আগস্ট) তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে সরকারি যেকোনো অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে রাজ্য গান ‘তামিল থাই ভাজতু’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনায় সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সংগীত ‘জন গন মন’ প্রথমে গাওয়ার বাধ্যবাধকতা জারি করে। কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোমবার বিজয় সরকার রাজ্য গানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। স্পিকার জেসিডি প্রভাকর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল—ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে উভয়েই এ প্রস্তাবে সমর্থন জানায়।
নতুন পাস হওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কার্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের যেকোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনায় তামিল রাজ্য সংগীত গাইতে বা বাজাতে হবে।
প্রস্তাবটি পাসের পর বিধানসভায় দেওয়া এক বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, “তামিল কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও জীবনরেখা। মাতৃত্বের মতোই মাতৃভাষা পবিত্র। তামিল অর্থ গৌরব ও শক্তি। তামিলনাড়ুতে ‘তামিল থাই ভাজতু’ প্রথম স্থান পাওয়া আমাদের অধিকার।”
উল্লেখ্য, গত মে মাসে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের কার্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী কেন্দ্র সরকারের নিয়ম মেনে তৃতীয় স্থানে রাজ্য সংগীত বাজানো নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিধানসভায় নতুন এই সিদ্ধান্ত পাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভাষাগত ও ঐতিহ্যগত বিতর্কের অবসান ঘটলো বলে মনে করা হচ্ছে।
