Sunday, September 20

ভৈরব নদে ভাসমান মরদেহের পরিচয় মিলল, নিহতের নামে আছে ১৪ মামলা

|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

খুলনার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতের নাম রাজীব হোসেন, যিনি ঘাউড়া রাজীব নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ মোট ১৪টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)-এর সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে রাজীবের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার খুলনার ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে তার ফুলে ওঠা ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

খুলনা নৌ পুলিশ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল আক্তার জানান, নিহতের মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজীব গত ৩ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নিখোঁজের দিনই তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজীব তিন মাস আগে গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় আসেন। অপরাধ কর্মকাণ্ডের পর তিনি প্রায়ই মামাবাড়ি গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর এলাকায় আশ্রয় নিতেন। তার বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবার মামলা করলে তদন্তে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা কিছুদিন গোপালগঞ্জে অবস্থান করেন। পরে গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার দিঘলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ঘটনার রাতে বিকাশ থেকে টাকা তোলার কথা বলে রাজীব বাসা থেকে বের হন। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন থানায় খোঁজ করেও কোনো তথ্য মেলেনি।

ফারহানা ইয়াসমিন দাবি করেন, রাজীব অতীতের চরমপন্থী কার্যক্রম ছেড়ে বর্তমানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং খালিশপুর থানায় মামলা করবেন বলে জানান।

নিহতের প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন বলেন, ২০১৬ সালে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সে সময় এক হামলায় রাজীব গুরুতর আহত হয়েছিলেন। প্রায় চার বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় কর্মরত আছেন। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি খুলনায় আসেন।

পুলিশ জানায়, রাজীবের একাধিক স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *